ফুরফুরার ইতিহাস

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম”

ফুরফুরা শরীফের ইতিহাস

হুগলী জেলার অন্তর্গত ফুরফুরা শরীফ অতি প্রাচীণ এবং প্রসিদ্ধ দরবার।

যখন ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব কিবলা (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি)’র পূর্বপুরম্নষ হজরত মাওলানা মনসুর বাগদাদী (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি) সেনাপতি হজরত শাহ হোসেন বোখারী (রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি) সহ বঙ্গদেশে আগমন করেন, তখন ফুরফুরা শরীফ এবং তার আশপাশের গ্রামগুলো বলিয়া-বাসন্তী নামে পরিচিত ছিল।

৭৯৬ হিজরীতে সুলতান গিয়াস-উদ্দিন ভাগীরথী নদীর তীর নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা নেন। সৈন্য পাঠান বাংলার ছোট ছোট সামন্তôবাদী এলাকায়, জমিদারিতে। সেনা বাহিনীর সাথে সাথে বিদগ্ধ আলেমরাও আগমন করেছিলেন।

এমনি এক অভিযানে হজরত শাহ সূফী সুলতান (রহ·) সেনাবাহিনী সহ আগমন করেন বঙ্গ দেশের দিকে। হজরত সূফী সুলতান (রহ·) সৈন্যদের দু ভাগ করলেন। নিজে একদল নিয়ে এগিয়ে গেলেন পান্ডু অভিমুখে, অন্য দলটা হজরত শাহ হোসেন বোখারি (রহ·)’র নেতৃত্বে বলিয়া-বাসন্তôী’র দিকে এগিয়ে আসে।

এখানেই ফুরফুরা শরীফের গোড়াপত্তন। আলস্নাহ রাব্বুল ইজ্জাত যুগে যুগে স্থানে স্থানে পাঠিয়ে থাকেন নায়েবে রাসূল (সালস্নালস্নাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসালস্নাম), পাঠিয়ে থাকেন ইসলামে নবযুগ দানকারীদের। ম্রিয়মাণ সুন্নাত, ইসলামী মৌলিক আচার-আচরণে ভাটা পড়লে আবির্ভাব হয় মুহ্‌ইউস্‌ সুন্নাহ্‌’ দের।

তেমনিভাবে ফুরফুরা শরীফেও আদর্শ ধার্মিক পুরম্নষ, মৌলিক তাসাউউফের অণ্বেষী, সুন্নাতের পুুনর্জীবনদানকারী, আ’রিফে রব্বানী, তবিরে জিসমানী, আমিরম্নশ্‌ শারইয়াত ওয়াত তারিক্বাত, মুজাদ্দিদ ই জামান, কুত্‌ব ই দাওরা, হাদীয়ে মিলস্নাত ওয়াদ্দীন, হুজ্জাতুল ইসলামকে প্রেরণ করলেন। তিনি বংশগত দিক দিয়ে ইসলামের প্রথম খলিফা, খলিফাতুর রাসূল, আসহাবে আজম, হজরত আবু বকর সিদ্দিকী রাদ্বিআলস্নাহু তাআলা আনহুর সরাসরি নাস্‌ল ই পাক এ। তার পবিত্র নাম, হজরত আবু বকর সিদ্দিকী আল কোরারণী রহমতুলস্নাহি তাআলা আলাইহি।

ফুরফুরা নাম হবার কারণ

মাওলানা শামসুল ওলামা গোলাম সালমানি (রহ·) বলেন, ফরাহ্‌ শব্দ থেকে উৎপত্তি ফুরফুরা শব্দটার। ফরাহ্‌- পূর্ণ আনন্ত। কেউ কেউ বলেন, ফার্রে ফারাহ্‌ থেকে শব্দটার উৎপত্তি, অর্থ- জাঁকজমকময় আনন্দ। তৃতীয় মত, ফরফরা থেকে শব্দের উৎপত্তি। ফরফরা অর্থ দ্রম্নত। এ অঞ্চলে দ্রম্নত ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে। তিন অর্থেরই পূর্ণতা দান করলেন মুজাদ্দিদ ই জামান হজরত দাদা হুজুর কিবলা। তাঁর শুভাগমনের জন্যই যেন এ নামের উৎপত্তি হয়েছিল, যা সব অর্থেই মিলে যায়।

এখানেই কাছাকাছি দাফন করা হয় ইসলামের চার ওলি। গঞ্জে শোহাদা’য় শুয়ে আছেন তারা। দিলস্নীর বাদশাহ আদেশ জারী করেন, তাদের জন্য জায়গীরের ব্যবস্থা করতে হবে। এ নিষ্ড়্গর জমি আয়মা, এবং যাদের জন্য দেয়া হয়, তাদের আয়মাদার বলা হত। এখনো হজরতে ফুরফুরা শরীফ, বেল পাড়া মহলস্না, রমপাড়া, আকুনি, বাধপুর, কোতবপুর, সীতাপুর, গাজীপুর, সূফি জঙ্গল সহ অনেক স্থানে আরামাদারগণ বসত করছেন। হজরত শাহ সৈয়দ হোসেন বোখারী (রহ·) প্রথমদিকে সৈন্যসহ সুফী জঙ্গলে অবস্থান করেন। তাদেরই স্মৃতিতে সূফী জঙ্গলের নামকরণ।

হজরত শাহ সৈয়দ হোসেন বোখারি (রহ·)’র মাজার শরীফ ফুরফুরা শরীফের পশ্চিম প্রান্তেô বেলপাড়া মহালস্নায় প্রাচীর-বেষ্টিত অবস্থায় এখনো দেখা পাওয়া যায়।

পূণ্যভূমি ফুরফু্‌রায় অসংখ্য ওলি, গাউস, কুতুব, আবদাল, মাওলানা, মৌলভি ও আলিমে দ্বীন-সূফি সাধকের মাজার শরীফ আছে।