ইসলাম মহান আল্লাহ, রাসূলে খোদা (সা:) এবং মুমিন বান্দার করণীয়

শুক্রবার, জানুয়ারি ২১st, ২০১১

মোহাম্মদ মোফাক্কের

রেজিষ্টার
বেস্টওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়

১। ইসলামঃ
অর্থ শান্তি এবং আলস্নাহর নিকট আত্নসমর্পণ। শান্তিôর প্রত্যাশা মানুষের সহজাত স্বভাব ও প্রকৃতিগত। মহান আলস্নাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের প্রতি সর্বাত্নক আত্নসমর্পণ মানুষের জন্য পরম শান্তিô ও সুখকর। ইসলামের উৎপত্তি হযরত আদম (আঃ) হতে, আর এর প্রসার হাশরের দিন পর্যন্তô। ইসলামের তৌহিদ ও একাত্নবাদের স্থান সবকিছুর উর্দ্ধে । ইসলাম কেবলমাত্র শান্তিôর পোষাক নয়, বরং কর্মের পোষাক। খান বাহাদুর আহ্‌সান উলস্নাহ (রঃ) তাঁর বিখ্যাত জীবন ধারা গ্রন্থে অত্যন্তô সুন্দরভাবে ইসলামকে সঙ্গায়িত করেছেন এভাবে “মহান প্রভুতে নিজকে সমর্পন করার নাম ইসলাম, আত্নত্যাগের নাম ইসলাম, প্রত্যেক মানুষকে ভ্রাতৃবৎ জ্ঞান করার নাম ইসলাম, সমগ্র জগৎকে একতার সূত্রে আবদ্ধ করার নাম ইসলাম, আমিত্ন বর্জনের নাম ইসলাম, নফসকে বশীভুত করার নাম ইসলাম, পরোপকারার্থে আত্নোৎসর্গ করার নাম ইসলাম, খোদার প্রতি সর্বাপেড়্গা অধিক মহব্বত সৃষ্টি করার নাম ইসলাম, এক কথায় স্রষ্ঠার সহিত সৃষ্টির যোগাযোগ সাধনের নাম ইসলাম“

২। আলস্নাহ্‌র পরিচয়ঃ
মহান আলস্ন্‌্‌হ রাব্বুল আলামীন সমগ্র সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা, সর্বশ্রোতা এবং সর্বশক্তিমান। তিনি সকল শক্তির আধার, সকল শান্তিôর আকর। তাঁর জ্ঞানের, প্রেমের, দয়ার শেষ নেই। মানব,জিন, শয়তান, ফেরেস্তôা সবই তাঁর আজ্ঞাধীন। তাঁর বিনা অভিপ্রায়ে একটি গাছের পাতাও নড়েনা। সব প্রশংসাই আলস্ন্‌াহতায়ালার। সুখে -দুঃখে, আপদে-বিপদে তিনি সকলের একমাত্র বন্ধু। আমাদের দেহ-প্রাণ, শিড়্গা-দীড়্গা, বুদ্ধি-বিবেচনা, ধন-দৌলত, মান-ইজ্জত এসবই আলস্নাহর দান এবং নেয়ামত। আমরা সকলেই তাঁর কাছ থেকে এসেছি এবং তারঁই নিকট ফিরে যাব। আমাদের উচিৎ প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে মহান আলস্নাহর অনুগ্রহের শুকর গুজারী করা। আসমান-জমিন,চন্দ্র-সূর্য, জল-স্থল, জীব-জানোয়ার, পাহাড়-পর্বত,ফল-মূল,গাছ-পালা ইত্যাদি সবই মানব জাতির কল্যানের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন। এগুলো সবই আলস্নাহ্‌ পাকের অসীম কুদরত ও রহস্যের অর্পূব নমুনা। তাই পবিত্র কোরআন শরীফে (সূরা বাকারা আয়াত-২৮৪) আলস্নাহ্‌ পাক এরশাদ করেছে।

“আসমান ও জমিনে যাহা কিছু আছে সমস্তôই আলস্নাহর। তোমাদের মনে যাহা আছে প্রকাশ কর অথবা গোপন রাখ আলস্নাহ্‌ উহার হিসাব তোমাদের নিকট হইতে গ্রহন করিবেন। অতঃপর যাহাকে ইচ্ছা তিনি ড়্গমা করিবেন এবং যাহাকে খুশি শাস্তিô দিবেন। আলস্নাহ্‌ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান”

তিনি রাত্রিকে দিবসে পরিণত করেন এবং দিবসকে পরিণত করেন রাত্রিতে। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে করিয়াছেন নিয়ন্ত্রিত। প্রত্যেক আবর্তন করে এক নিদিষ্ট কাল। তিনিই আলস্নাহ্‌ তোমাদিগের প্রতিপালক । সার্বভৌমত্ব আলস্নাহে্‌রই (সূরা ফাতিরঃ আয়াত-১৩)।

‘‘ তিনি যখন কোন কিছু করিতে ইচ্ছা করেন তিনি কেবল বলেন হও ফলে উহা হইয়া যায় ’’ (সূরা ইয়াসিন আয়াত-৮২)

৩। রাসূলে খোদার মাহাত্নঃ
নবী করীম (ছাঃ) হলেন আলস্নাহ্‌র মাহবুব বা বন্ধু, নবীকূলের শিরোমনি। তিনি সমগ্র সৃষ্টির জন্য নেয়ামত ও আদর্শ স্বরম্নপ। হাদীসে কুদসীতে আলস্নাহ্‌ রাব্বুল আলামিন বলছেন “আমি যদি নবী হযরত মোহাম্মদ (ছাঃ) কে সৃষ্টি না করিতাম তাহা হইলে এই পৃথিবীর কোন কিছুই সৃষ্টি করিতাম না। কোরআনে উলেস্নখ আছে, “নিশ্চয়ই আলস্নাহ্‌ তায়ালা ও তাঁহার ফেরেস্তôাগণ সকলে হযরত রাসুলে (ছাঃ) এর প্রতি দরম্নদ পড়িয়া থাকেন। অতএব হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার প্রতি দরম্নদ শরীফ পাঠ কর। আমাদের পরম সৌভাগ্য এবং অতি বড় মর্তবা এই যে, আমরা তাঁর উম্মত হতে পেরেছি। আমাদের উচিৎ নবী করীম (ছাঃ) এর প্রতি খাঁটি মহব্বতের মাধ্যমে আলস্নাহর দীদার লাভে সচেষ্ট হওয়া। রাসূলে খোদার জীবন আদর্শকে আমাদের ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, সমাজ জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে এবং আমাদের শিড়্গা, সংস্ড়্গৃতি, তাহজীব, তমুদ্দুন, সবকিছুতে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। তবেই হবে আমাদের জীবন স্বার্থক ও সফলকাম। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, নবী করীম (ছাঃ) এর প্রতি যত বেশী দরম্নদ ও সালাম পেশ করা যাবে, ততবেশী নবীর মহব্বত এবং আলস্নাহ্‌র নৈকট্য লাভ করা যাবে। যে কোন অবস্থায় একজন মানুষ নবীর সম্মানে দরম্নদ ও সালাম পাঠ করিতে পারেন। বিনা আজুতে ও দরম্নদ ও সালাম পেশ করা জায়েয।

৪। একজন মুমিন বান্দার জন্য করণীয় কাজঃ
আলস্নাহ্‌র প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর নিকট সম্পূর্ণরম্নপে আত্নসমর্পণ করা;
আলস্নাহ্‌কে হাজির নাজির ভেবে তাঁর ইবাদত ও জিকিরে মশগুল থাকা;
রাসূল করীমের প্রতি আন্তôরিক মহব্বত এবং তাঁর অনুকরণ এবং অনুসরণের মাধ্যমে সর্বদা আলস্নাহ্‌র রেজামন্দি হাসিলে সচেষ্ট থাকা;
আলস্নাহ্‌র হক ও বান্দার হক আদায় করা এবং সর্বদা আলস্নাহ্‌র নেয়ামতের শুকুর গুজারী করা;
আদব,মহব্বত ও তাজিমের সঙ্গে নির্জনে এবং নীরবে আলস্নাহর নিকট ক্রন্দন করা;
সদা সত্য কথা বলা, পরিমিত আহার করা এবং অল্প নিদ্‌্রা যাপন করা;
পরনিন্দা,পরচর্চা,কড়া কথা বলা এবং অযথা রাগ করা থেকে বিরত থাকা;
অহঙ্কার বড়াই এবং লোক দেখানো কাজ না করা;
লোভ, লালসা,মোহ, হিংসা-দ্বেষ পরিত্যাগ করা;
সুখে-সম্পদে এবং বিপদে আপদে সবুর ও ধৈর্য ধারণ করা;
আলস্নাহ্‌ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো কাছে কিছু আশা না করা;
আমিত্নবোধ লোপ করা এবং নিজকে অপরাধী নালায়েক ও গুনাহগার ভেবে তওবা করা;
সংগতি থাকলে অবশ্যই পবিত্র হজ্ব পালন এবং নবী করীম (সাঃ) এর রওজা শরীফ জিয়ারত করা;
সেই সঙ্গে নবী করীম (সাঃ) এর নিম্নবর্নিত দুটো উক্তি সর্বদা স্মরন রাখাঃ

‘‘মনে রাখিও একদিন তোমার মৃতুø হইবে এবং তোমার কৃত কর্মের জন্য আলস্নাহ্‌র নিকট জবাবদিহি করিতে হইবে’’।
‘‘হে আমার উম্মতগণ, আলস্নাহ্‌র শপথ আমি যাহা জানি তাহা যদি তোমরা জানিতে, তাহা হইলে কম হাসিতে এবং বেশি কাঁদিতে’’।

Copyright © www.furfurasharif.com ,২০১১, সর্ব্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েব সাইটের যে কোন তথ্যের বা অংশের কর্তৃপক্ষের বিনা আনুমতিতে অন্যত্র প্রকাশ, ব্যাবহার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন আইনতঃ নিষিদ্ধ।