ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদে মিল্লাদুন্নবী উদযাপন

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ইসলামের আদর্শ হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর নাম ও সুন্নাহ ছাড়া ইসলামকে জানা ও বোঝা অসম্ভব। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, আল্লাহ পাক রাসূল (সঃ) কে মানবজাতির জন্য রহমত স্বরূপ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যা আল্লাহ কোরআনে বলেছেন।

আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্যে থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা  শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথ ভ্রষ্ট। (সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৬৪)

প্রায় ১৪০০ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ ভক্তি ও আনন্দের সাথে রাসূল হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিবস ১২ই রবিউল আউয়াল ”ঈদে মিল্লাদুন্নবী” উদযাপন করে আসছে। কোরআন ও হাদিসের কোথাও কি একথা বলা হয়েছে যে, ঈদে মিলাদুন্নবী ১২ই রবিউল আ্‌উয়াল বা অন্য কোন দিনে পালন করা ইসলামের বিরুদ্ধে? বরং পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টি, হযরত ইসা (আঃ) এর  জন্ম সস্পর্কে বিস্তারিত বলেছেন। আল্লাহর  প্রায় সব নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর আগমন সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ অনুসারীদেরকে বলেছিলেন।

মোহাম্মদ (সঃ) হলেন আল্লাহ এবং মানবজাতির মধ্যে যোগসূত্র স্বরূপ। রাসূল (সঃ) কে ভালবাসা ঈমানের একটি অপরিহার্য অংশ। তাই আল্লাহ পাক কোরআনে রাসূল (সঃ) কে অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন-

বলুন যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালূ। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-৩১)

এখানে নিদের্শ  এসেছে দুই দিক থেকে। একদিকে কেউ যদি সর্বশক্তিমাণ আল্লাহকে ভালোবাসতে চায় তবে তাকে অবশ্যই মোহাম্মদ (সঃ) কে অনুসরণ করতে হবে। অন্যদিকে, আল্লাহর ভালবাসা পেতে হলে রাসূল (সঃ) কে অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে রাসূল (সাঃ) কে অনুসরণ করা।

নবী করিম (সঃ) বলেছেন- ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ মোমেন হতে পারবেনা যতক্ষন না আমি তার পিতামাতা, সন্তান ও অন্য সবাই থেকে প্রিয় হবো। (সহীহ আল বুখারী)

সাধারণতঃ মানুষ তার আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে ভালোবাসে। এটি একটি স্বর্গীয় ভালবাসা যেখানে একজন মুমিন আল্লাহর পরে রাসূল (সঃ) সম্পর্কে সর্বোচ্চ ভালোবাসা হৃদয়ে পোষণ করে এবং সর্বোচ্চ সম্মান  দেয়। রবিউল আউয়াল মাসে এসব আশেকে রাসূল আনন্দের সাথে তাদের পথ প্রদর্শকের জন্মকে ঈদে মিল্লাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে। দুর্ভাগ্যবশতঃ আমাদের মধ্যে কেউ মুসলিম ভাইবোনদের এ বলে পরিচালিত করে যে, ঈদে মিল্লাদুন্নবী শির্‌ক বেদাত ইত্যাদি এবং মুসলিমদের সরাসরি ঈদে মিল্লাদুন্নবী উদযাপন থেকে বিরত থাকতে বলে। যাতে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ থেকে তারা বিরত হয়। আবার এটাও দেখা যায় যে, ঐসব লোক যারা মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্ম দিবস পালন করতে বাধা দেয় তারাই আবার তাদের সন্তানদের জন্ম দিবস, আকিকা, খুশি ও উৎসাহের সাথে উদযাপন করে। তখন তারা ভুলে যায় তাদের দেয়া সকল শির্‌ক, বেদাত ফতোয়া। একই সাথে তারা তাদের বন্ধু বা আত্মীয়দের জন্মদিনে যেতেও কিছু মনে করে না।

উদ্দেশ্যঃ

এই লেখাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম ভাইবোনদের বুঝানো যে, ঈদে মিল্লাদুন্নবী শরীয়তের বিরুদ্ধে নয়; বরং এটা ইসলামের প্রাণ। কেউ ঈদে মিল্লাদুন্নবী পছন্দ না করার অর্থ এই নয় যে ঈদে মিন্নাদুন্নবী উদযাপন করা ভুল। অন্যভাবে বলা যায় কেউ ইসলামের চর্চা না করার মানে এই নয় যে ইসলাম খারাপ।

ঈদে মিল্লাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালাঃ

যে সব বিষয় নিয়ে ঈদে মিল্লাদুন্নবীর অনুষ্ঠান সাজানো হয় সেগুলো নিম্নরূপ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত

হাম্‌দ বা আল্লাহর গুণকীর্তন

নাত এ রাসূল বা রসূল (সঃ) এর গুণকীর্তন

রসূল (সঃ) এর জীবন সম্পর্কে আলোচনা

দরূদ শরীফ পড়া

দোয়া ও মোনাজাত

তাবারুক বা খাদ্য বিতরণ

এখন আমরা উপরের ৭টি বিষয় কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্নেষণ করে দেখবো এগুলো ইসলামের পক্ষে না বিপক্ষে। বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে যদি সকল বিষয় শরীয়ত সম্মত হয় তাহলে সমস্ত বিষয়ই একত্রে (অনুষ্ঠানটি) গ্রহণযোগ্য হবে।

১। কোরআন তেলাওয়াত- পবিত্র কোরআন শরীফ তেলাওয়াত বা পড়ার ব্যাপারে কারও কোন আপত্তি নেই।

২। হামদ্‌- সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসাই হচ্ছে হামদ্‌। বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তুই আল্লাহর তসবিহ পড়ে। আল্লাহর জিকির মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়। ফলে এব্যাপারে কারো কোন আপত্তি নেই।

৩। নাতে রাসূল (সাঃ)- না’তে রাসূল হলো ছন্দ বা কবিতার মাধ্যমে প্রিয় নবী (সাঃ) এর প্রশংসা করা। নবীজির প্রশংসা করা শির্‌ক বা বেদাত নয়।

পবিত্র কোরআন শরীফের নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ পাক মোহাম্মদ (সাঃ) এর সম্মান ও প্রশংসা করেছেন।

আল্লাহ ও তার ফেরেস্তাগণ নবীর প্রতি দরূদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ তোমরা নবীর প্রতি দরূদ ও সালাম বেশী করে প্রেরণ করো সম্মানের সহিত। (সুরা আহাযাব, আয়াত ৫৬)

আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)

আল্লাহর নবী মুমিনের আত্মার চেয়েও কাছাকাছি। (সুরা আহাযাব, আয়াত ০৬)

যে লোক রাসুলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহর হুকুম মান্য করবে। (সুরা নিসার, আয়াত ৮০)

যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রসুলুল্লাহের মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। (সুরা আহাযাব, আয়াত ২১)

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকে ঘুরিয়ে দিব যাকে আপনি পচ্ছন্দ করেন। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪)

উর্ধ্বে দিগন্তে অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল তখন দুই ধণুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ তার দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার তা প্রত্যাদেশ করলেন। রাসুলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখলো। (সুরা নাজম, আয়াত ৭-)

মুমিনগণ। তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো তার সাথে সে স্বরূপ উচ্চস্বরে কথা বলোনা, এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল হয়ে যাবে এবং তোমরা তা টেরও পাবেনা। (সুরা হুজুরাত, আয়াত ২)

এবং আপণার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা বলুন এবং প্রকাশ করুন। (সুরা আদদোহা, আয়াত ১১)

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করে আমার ব্যাপারে আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে তখন তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)

পবিত্র কোরআনে রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে এ রকম সম্মান ও প্রশংসা অগণিত। হাদিসে আছে, রাসূল (সাঃ) নিজে হাসান বিন তাহবিদ (রাঃ) কে নির্দেশ দিয়েছেন তাকে প্রশংসা করে কবিতা পড়ার জন্য।

আমরা অবাক হই মুনকির-ই-মিলাদরা এখন কি ভাবছে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে? আমরা যারা রাসূল (সাঃ) কে ভালোবসি তারা বিশ্বাস করি শরীয়ার ভিতরে থেকে কাউকে প্রশংসা করার অর্থ পরোক্ষভাবে আল্লাহকে ভালোবাসা যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় কেউ যদি কোন দালানের গঠন প্রনালীর প্রশংসা করে তবে তার মানে হলো পরোক্ষভাবে যারা এই গঠন প্রনালীর পেছনে সংশ্লিষ্ট তাদের প্রশংসা করা। যেমন নকশাবিদ, প্রকৌশলী, নির্মাতা। যদি কাউকে প্রশংসা করা শিরক বা বেদাত হয় তবে আমরা সবাই আমাদের পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, শিক্ষক, নেতাকে যে কোন ভাবেই প্রশংসা করে পাপ করছি। সর্বশেষে যদি মুনকির-ই-মিলাদরা প্রমান করে কোরআনে আল্লাহ পাক রাসূল (সাঃ) এর প্রশংসা করার সীমারেখা টেনে দিয়েছেন তবে আমরা সেখানে থামবো কিন্তু কোরআন শরীফে আল্লাহ রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে বলেছেন,

আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত ৪)

যখন আল্লাহ মোহাম্মদ (সাঃ) কে স্মরণ করাকে বৃদ্ধি করেন তখন পৃথিবীতে কার শক্তি আছে তা কমাবার।

৪। রাসূল (সাঃ) এর জীবনী আলোচনা- মোহম্মদ (সাঃ) হলেন ইসলামের আদর্শ। কেউই মোহাম্মদ (সাঃ) এর নাম মোবারক ছাড়া ইসলাম সম্পর্কে বলতে পারবেনা। আল্লাহ ও মানবজাতির মাঝে তিনি হলেন যোগসূত্র। আমরা যতবারই ”লা- ইলাহা-” বলিনা কেন  আমরা মুসলমান হতে পারবনা যতক্ষন না আমরা ”মোহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ” বলব। এমনকি আমাদের নামাজ (যা একান্তই আল্লাহর জন্য) পরিপূর্ণ হবেনা যতক্ষন না আমরা ”আসালামু আলাইকা আইয়্যূহান্নাবীয়ূ”- তাশাহুদ পড়বো (আত্তাহিয়াতু পড়ার সময়)। যখন আল্লাহ তাআলা তার হাবীবের (সঃ) নাম তার নাম থেকে পৃথক করেননি তখন নবী (সঃ) এর নাম আমরা কিভাবে  বাদ দেব।  মোহাম্মদ (সঃ) না আসলে আজ পৃথিবীতে ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত কিছুই থাকত না। তাই তো আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষনা করেছেন,

আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্যে থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা  শিক্ষা দেন। বস্তুত তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথ ভ্রষ্ট। (সুরা ইমরান, আয়াত-১৬৪)

এবং আপণার পালনকর্তার নেয়ামতের কথা বলুন এবং প্রকাশ করুন। (সুর আদদোহা আয়াত ১১)

বিশ্বাসীদের জন্য মোহাম্মদ (সঃ) সবচেয়ে হচ্ছেন বড় নেয়ামত। আল্লাহ পাক বিশ্বাসীদের তাঁর নেয়ামতের শুকর গুজার করার নিদের্শ দিয়েছেন। তাই আমরা ঈদে মিল্লাদুন্নবী পালন করার মাধ্যমে নবী (সঃ) এর বিভিন্ন দিক আলোচনা করে ইসলামের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে দিব। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বাসীদের  জন্য ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সঃ) হলো সত্যিকারের ঈদ। কেননা মোহাম্মদ (সঃ) ছাড়া ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা কোনটাই হত না।

৫। সালাত (দরুদ) সালাম-

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিশ্বাসীদের নিদের্শ দিয়েছেন মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠানোর জন্য যা নিচের আয়াতে বলা হয়েছে।

আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ  প্রেরণ করেন। হে মুমিন তোমরাও নবীর প্রতি বেশী  করে দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর। (সূরা আহ্‌জাব, আয়াত ৫৬)

হাদীসঃ

আবু মাসউদ আল আনসারী (রাঃ) বলেছেন, আমরা সাদ ইবনে ওবায়দাহর সাথে বসেছিলাম। যখন নবী (সঃ) আমাদের নিকট আসলেন তখন বশীর ইবনে সাদ বললেন, আল্লাহ আমাদের আপনার জন্য দোয়া করার নিদের্শ দিয়েছেন। কিন্তুু হে রাসূল (সঃ) আমরা তা কিভাবে করব ? রাসূল (সাঃ) এ কথা শুনে চুপ করে রইলেন এবং কিছু জিজ্ঞেস করা ঠিক হবে না ভেবে আমরা চুপ করে রইলাম। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, আল্লাহ, মোহাম্মদ ও তার পরিবারবর্গের উপর অনুগ্রহ করেছেন যা আল্লাহ ইব্রাহিমের পরিবারবর্গের উপর করেছেন। রহমত দান করেছেন মোহাম্মদ (সঃ) ও তার পরিবারবর্গের প্রতি আপনি (আল্লাহ) যা করেছেন পৃথিবীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর পরিবারবর্গের প্রতি। আপনার এ কাজ প্রকৃতপক্ষে প্রশংসনীয় ও গৌরবময় এবং আভিবাদন যা আপনি জানেন। ( সহীহ মুসলিম)

শুক্রবারে আমার উপর বেশী বেশী দরূদ ও সালাম পাঠ করো। তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকে আমার উপর পড়া প্রতিটি দরূদ ও সালামের জন্যে তাঁর (আল্লাহ) সাওয়াব আমার কাছে পৌঁছায় তোমাদের দরূদ পাঠ শেষ করার পূর্বেই। (আল-তিরমিজি)

উপরোক্ত হাদিস ও কোরআনের আয়াতের আলোকে বলা যায় মোহাম্মদ (সঃ)  এর  উপর দরুদ ও সালাম পাঠানো ব্যাতীত মুনকির-ই-মিলাদদের অন্য কোন পথ নেই। মুনকির-ই-মিল্লাদরা মিলাদ মাহফিলে মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি দাঁড়িয়ে ও সরবে দরুদ পড়ার বিরোধিতা করে। প্রতিউত্তরে আমরা বলব কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) কোন জায়গায় ইহা উল্লেখ করেননি যে কিভাবে এবং কতটা স্বরবে দরূদ ও সালাম জানাতে হবে। এটি সম্পূর্ণ বিশ্বাসীদের উপর নির্ভর করে যে তারা কি অবস্থায় এবং কতটা স্বরবে দরূদ ও সালাম জানাবে। দরূদ ও সালাম পাঠানোর ধরণ হতে পারে বসা, বিছানায় বা মাটিতে শোয়া অবস্থায় বা স্থির দাঁড়িয়ে। যেহেতু আমরা আল্লাহর পরেই মোহাম্মদ (সঃ) কে শ্রদ্ধা করি তাই মোহাম্মদ (সঃ) প্রতি দাঁড়িয়ে দরুদ ও সালাম পাঠ করাই সর্বোত্তম।

দোয়াঃ

মুনকির-ই-মিলাদদের বিভিন্ন প্রকার মত রয়েছে। কেউ দোয়ায় বিশ্বাস করে কেউ করেনা। কেউবা বিশ্বাস করে আল্লাহ সব কিছুই জানেন। তাই দোয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে কোরআনে আল্লাহ তা’আলা বিশ্বাসীদের নিম্নোক্ত দোয়া করার নিদের্শ দিয়েছেন-

আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে আমার ব্যাপারে আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে তখন তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)

তোমরা চির-প্রতিপালককে ডাকো কাকুতি-মিনতি করে এবং সঙ্গোপনে(সূরা আরাফ, আয়াত ৫৫)

এমনকি আমাদের প্রিয় রাসূল (সঃ) সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন যদিও তিনি সকল পাপ ও দোষমুক্ত। আমরা কি আমাদের শিক্ষক মোহাদ্মদ (সঃ) থেকে বেশী উৎকৃষ্ট যে আমরা দোয়ার প্রয়োজনবোধ করি না। আসুন দেখি আল্লাহ তা’য়ালা ঐসব অহংকারী মুর্খদের সম্পর্কে কি বলেছেন-

এবং যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, (সূরা মুমিন, আয়াত ৬০)

অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করল না ? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল। ( সূরা আনআম, আয়াত ৪৩)

মিষ্টি বা তাবারুক বিতরণঃ

মুনকির-ই মিলাদদের মিলাদের অনুষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণে কি আপত্তি আছে ? তারা কি বিয়ে, অলিমা, আকিকা, তহবিল বৃদ্ধির বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা জন্মদিনে গিয়ে খায়না? মিষ্টি বিতরণ ছাড়াই মিলাদ মাহফিল  পালন করা যেতে পারে। এটা মিলাদের আবশ্যকীয় অংশ নয়। কেউ অসমর্থ হলে বা তবারক বিতরণে আগ্রহী না হলে তবারক বিতরণ ছাড়াই মিলাদুন্নবী (সঃ) পালন করতে পারবে। মিষ্টি বা খাদ্য বিতরণ করা হয় ভালোবাসার চিহ হিসাবে। মাঝরাতে বাসায় ফিরে রান্না করতে অতিথিদের অসুবিধা হবে ভেবে রাতের খাবার দেয়া হয়।

মিলাদ মাহফিলের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা যা কোরআন ও হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে পরিস্ড়্গার প্রমান করে যে উপরোক্তভাবে সমবেত হওয়া ইসলাম বিরুদ্ধ নয় বরং এটা ইসলাম সম্পর্কিত যেখানে মুসলমান ভাই ও বোনেরা একত্রিত হয়ে আল্লাহ ও তার বন্ধু (সঃ) এর কথা শুনে।

একই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমবেত হওয়া যেমন লাইলাতুল কদর, শবে বরাত,  শবে মেরাজ যেখানে আল্লাহ ও তার রাসুলের কথা বলা হয় তা ভাল এবং সকল মুসলিমের সেসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা উচিত। যদি কেউ এটা পালন না করে তাহলে এসব মাহফিলের ফজিলত পাবেনা। কিন্তু কাউকে এসব মাহফিলে অংশগ্রহন করাকে বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। মাহফিল সম্পর্কে কটুক্তি করা যাবে না। এসব মাহফিলকে কুফর, শিরক-বেদাত বলা যাবে না। যেহেতু এসব অনুষ্ঠানে সবাই ভালোর জন্য উপস্থিত হয় এবং সেখানে আল্লাহর জিকির, রাসূলের (সঃ) দরূদ, আল্লাহর ওলিদের জীবনী আলোচনা হয়।

এসব দোয়ার মাহফিলে অংশগ্রহন করাকে বাধাগ্রস্থ করা এবং মিলাদ মাহফিলকে বেদাত বলা হলো শয়তান ও তার সঙ্গীদের কাজ।

মিলাদ মাহফিল সম্পর্কে তিনটি আপত্তিঃ

১ম আপত্তিঃ মিলাদ মাহফিল রাসুল (সঃ) এর সময় ছিল না তাই এটা বেদাত (নতুন আবিস্ড়্গার)

২য় আপত্তিঃ সৌদিআরবে যেহেতু ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত হয় না তাই এটা ভুল। এটা একটি ভারতীয় বিষয়।

৩য় আপত্তিঃ ১২ই রবিউল আউয়াল মোহাম্মদ (সঃ) এর ওফাত দিবস তাই এটা শোকের দিন উৎসবের নয়।

সাধারন মানুষ যাদের ধর্মীয় জ্ঞান কম উপরোক্ত তিনটি আপত্তির মাধ্যমে তারা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে মুনকির-এ-মিলাদদের ফাঁদে পড়তে পারে। এখানে উপরের তিনটি আপত্তির যুক্তি খন্ডন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে মুনকির-এ-মিলাদরা সহজ-সরল মুসলিম নর-নারীদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে। নিমের্ন আলোচনা থেকে বোঝা যাবে মিলাদ মাহফিল সম্পর্কে মুনকির-ই-মিলাদদের দাবী সঠিক নাকি ভুল।

১ম আপত্তির জবাবঃ মোহাম্মদ (সাঃ) ও সাহাবাদের সময়ে প্রতিদিনই মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে হয়তো উদযাপনের ধরনের কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বিষয়বস্তু  একই তা হলো কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া। (কোরআন ও সুন্নাহ মাহফিল)।

রাসূল (সাঃ) প্রতি সোমবার রোজা পালনের মাধ্যমে নিজের জন্ম দিবস পালন করতেন। কেন তিনি প্রতি সোমবার রোযা রাখেন এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজি (সঃ) বললেন, “আমি জন্মেছি সোমবারে এবং কোরআন নাজিলও হয়েছে সোমবারে” (সহীহ মুসলিম)। যারা মিলাদ মাহফিলের বিরোধিতা করে তারা মেসকাত শরীফের একটি হাদীস উল্লেখ করে যেখানে নবী (সঃ) বলেছেন “যে কেউ আমাদের ধর্মে একটি নতুন ধারনার পরিচয় দেয় যা প্রশ্নবিদ্ধ হয় তবে তা বাতিল বলে গন্য হবে তিনি আরো বলেন “ নতুন কিছূ থেকে সাবধান, প্রতিটি নতুন কিছুই (কুল্লু বিদাত) ভুল পথে পরিচালিত করে।

কিন্তু ঐসব ভন্ড মুনকির-ই মিলাদরা কখনো একই বইয়ের অন্য হাদিস উল্লেখ করে না যা নতুন কিছুকে সমর্খন দেয়। মেশকাত শরীফের “বাবুল এলমে” বলা হয়েছে যিনি ইসলামে একটি সুন্দর (ভাল কাজের) দৃষ্টান্ত রাখবেন তার জন্য রয়েছে সুন্দর পুরষ্ড়্গার পাশাপাশি তারাও পুরৃড়্গত হবেন যারা একাজের অনুসরণ করবে। আর যারা খারাপ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করবে তারা তার দায় বহন করবে এবং  যারা এ কাজের অনুসরন করবে তারাও সে কাজের দায় বহন করবে।” (মেশকাত শরীফের)

এই হাদীস থেকে আমরা ইসলামে কোরআন ও হাদীসের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি নতুন পথের সন্ধান পেতে পারি যা মানুষকে পুরস্ড়্গারের দিকে আগ্রহী করে তোলে।

যদি আমরা মনে করি  সব নতুন কিছুই বেদাত তা হলে মুনকির-ই মিলাদরা নিম্নোক্ত নতুন আবিস্ড়্গারের ব্যাপারে কি বলবে যা নবীজি (সঃ) এর সময়ে ছিল না-

একত্রে ৩০ পাড়া কোরআন

শুক্রবারে জুম্মায় সানী আজান (খুতবার আগে)

জামাতে ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ

হাদীস সংকলণ

    কিছু ভাল বিদাত আমাদের প্রতিদিনের ধর্মীয় কর্মকান্ডে (বিদাতে হাসানা)

    ইসলামে এমন এবাদত খুব কমই আছে যাতে বেদাতে হাসানা নেই। নিম্নের আলোচনা থেকে তা বোঝা যাবে।

    ইমানঃ প্রতিটি মুসলিম শিশু ”ঈমানে মোজাম্মেল” এবং ”ঈমানে মুফাচ্ছেল” শিক্ষা করে অথচ এ নামের কোন ঈমানের চর্চা নবী (সঃ), সাহাবা, তাবেইন ও তাবে-তাবেঈনদের যুগে ছিল না।

    কলেমাঃ প্রতিটি মুসলমান ৬টি কালিমা মুখস্ত রাখেন। এই ৬ কলেমার গননা, গননার ধরন যেমন ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি বলা বেদাত যা ইসলামের শুরুর দিকে ছিল না।

    কোরআনঃ কোরআনকে ৩০ পাড়ায় ভাগ করা,  পারাকে রুকুতে ভাগ করা, তাতে জের, জবর, পেশ দেয়া, অফসেট কাগজে কোরআনকে মুদ্রিত করা বেদআত যা ইসলামের শুরুতে দেখা যায় নি।

    হাদীসঃ বইয়ের আকারে হাদীস সংগ্রহ করা, বর্ণনাকারী রাবীর তালিকা নির্ণয়, হাদিস গুলোকে সহীহ, জয়ীফ, মৌজু, মোয়াল্লাদ ইত্যাদি হিসেবে বিশিস্টায়িত করা, হাদীসের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত নিদের্শ যেমন মাকরুহ, মোস্তাহাব ইত্যাদি সবই বেদাত বলে গন্য হবে যা নবী (সঃ) এর সময়ে ছিল না।

    হাদীসের মুলনীতিঃ (উসুল এ হাদীস) জ্ঞানের সব শাখা ও এর নিয়ম সমূহ হল বেদআতে হাসানা।

    ফিকহঃ বর্তমান সময়ে আমদের দৈনন্দিন জীবনে সবকিছুই নির্ভর করছে এই জ্ঞানের উপর। কারন এর ভেতরেই আছে জীবনের সবকিছুর নিয়ম ও নির্দেশ। এটিও বেদআতে হাসানা।

    উসুলে ফিকহ এবং ইলম-ই কালামঃ জ্ঞানের এই দুইটি শাখা পাশাপাশি এর মূলনীতি ও নিষেধ সমূহ বেদআতে হাসানা।

    সালাতঃ নিয়্যত (আবৃতি) করে নামাজ আরম্ভ করা। রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ নামাজ জামায়াতে পড়া, ইফতারের দোয়া, সেহরির নিয়্যত দোয়া সবই বেদআতে হাসানা।

    যাকাতঃ বর্তমানে কাগজের ও ধাতব মুদ্রার মাধ্যমে যে যাকাত দেওয়া হয় তা বেদআত। কারণ ইসলামে শুরুর শতাব্দীতে তা প্রচলিত ছিল না।

    হজ্জ্বঃ হজ্জ্ব পালন করতে গিয়ে যান্ত্রিক যানবাহন যেমন উড়োজাহাজ, জাহাজ, বাস, ট্যাস্কি এবং গাড়িতে চড়ে আরাফাতের ময়দানে যাওয়া সবই বেদআত কারণ এসব সুযোগ সুবিধা সমূহ তখন আবিষ্কৃত হয়নি।

    বিদাতে হাসানা যখন ইমান ও কলেমা পরিচয় করে দিয়েছে তখন আমরা এসব থেকে দুরে থেকে কি ভাবে সাফল্য লাভ করব।  তাই আমাদের একমত হওয়া উচিৎ যে, সকল বেদাতই হারাম নয়। এবং ঐ বেদাত হারাম যার সাথে কোরআন ও সুন্নাহর অসংগতি রয়েছে।

    দুনিয়াবী ব্যাপারে বেদআতঃ আমাদের চারপাশে যে সব নতুন আবিষ্ড়্গার দেখি যা ইসলামের প্রথম ৩০০ বছর পর্যন্ত দেখা যায়নি।  সেসবের সাথে আমরা এমনই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে সেসব ছাড়া আমাদের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়বে। প্রত্যেকে ট্রেন, গাড়ী, উড়োজাহাজ,  ঘড়ি, বিদুøত এবং অনেক কিছুই ব্যবহার করতে বাধ্য। এগুলো ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। এ সবই বেদআত যা নবীজি (সঃ) এর সময় বা সাহাবীদের সময় খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    মুনকির-ই মিলাদরা বর্তমান সময়ে বেদআত সম্পর্কে কি বলবে যা আমাদের ধর্মীয় কর্মকান্ডের অংশ হয়ে গেছে। যেমন জুম্মা ও প্রতিদিনের নামাজে ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য স্পিকার ও মাইক্রোফোনের ব্যবহার ।

    মসজিদ মাদ্রাসা বানানোর উদ্দেশ্যে হোটেলে রাত্রের খাবার আয়োজন করে অর্থ সংগ্রহ করা

    তারা কেন উপরোক্ত নতুন আবিষ্কার সমুহ ব্যবহার করার উপর শিরক, কুফর, বেদাতের ফতোয়া দেয় না যা ইসলামে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা বলা যাবে না যে, মুনকির মিলাদরা স্পিকার ব্যবহার করে না এবং তহবিল বৃদ্ধির অনুষ্ঠানের আয়োজন বা অংশগ্রহন করে না।

    আধুনিক সময়ের কিছু খারাপ বেদআত ( বেদআতে সাইয়্যেয়া) যা ইসলাম বিরুদ্ধ যা থেকে দুরে থাকা উচিত। কিন্তু মুনকির মিলাদদের মাধ্যমে যা চর্চ্চা হচ্ছে ফলে দুর্ভাগ্যবশতঃ কিছু নিরীহ মুসলমান বিভ্রান্তিতে পড়ছে।

    মাথা অনাবৃত অবস্থায় নামাজ পড়া (টুপি না পড়ে নামাজ আদায়)

    নামাজ পড়ে হাত না তুলে দোয়া চাওয়া

    চাঁদ না দেখে রোজা শুরু করা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহার অগ্রীম ঘোষনা দেয়া

      উপরের প্রতিটি কাজই ইসলামের নতুন খারাপ আবিষ্কার যা বেদাতে সাইয়া। কারণ এসব জিনিস গ্রহণ করে একজন ইসলামে নতুন  আবিষ্কারের পরিচয়ই করালো না বরং একই সময়ে সে নবীজি (সঃ)  সুন্নাহকে অগ্রহ্য করল যা সরাসরি আল্লাহর নির্দেশ অমান্যের সামিল।

      ২য় আপত্তির জবাবঃ এটা খুবই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে দুনিয়াবী ব্যাপারে আমরা মানসিক ভাবে পশ্চিমা ঘেষা এবং ধর্মীয় ব্যাপারে আরব ঘেষা। কোরআন মজিদ নাজিল হয়েছে আরবে এবং আরবীয়রা কথা বলে আরবীতে। এজন্যে আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারাই শ্রেষ্ঠ বা ইসলামের সব। অন্যদিকে কোরআন ও হাদিসের কোথাও আল্লাহ ও রসূল (সঃ) বলেননি যে মুসলমানদের সৌদি আরব, আরব, অনারবদের অনুসরন করতে হবে। কোরআন ও হাদিসের সব জায়গায় বলা হয়েছে যে আল্লাহ ও তার নবী (সাঃ) এর সুন্নাহকে অনুসরন করা। এটাও মনে রাখতে হবে যে নবীজি (সাঃ) তার বিদায়ী ভাষণে বলেছিলেন “আরব অনারবের উপর নয়, অনারব আরবের উপর নয়। তোমরা সবাই সমান শুধুমাত্র ধর্ম ভক্তি ও ভাল কাজ ছাড়া।”

      এখন সৌদি সরকার নবীজি (সাঃ) এর জন্মদিবস পালন করেনা। অথচ যদি ৮৫ বছর আগের সৌদিআরবের দিকে লক্ষ্য করা হয় তখন ছিল হিজাজ-আল-মুকাদ্দাস (অটোম্যান সাম্রাজ্য) ঐ সময় আরবীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন করতো। এখন সৌদি আরব ও তার কিছু বন্ধু রাষ্ট্র ছাড়া সমগ্র আরব জাহানের মিশর, সিরিয়া, ইরাক, জর্দান, মরক্কো, লেবানন, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়ায় একই সাথে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হয়। আল্লাহ  আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তার রাসূলের (সাঃ) অনুসরন করার, কোন নির্দিষ্ট দেশকে নয়।

      ৩য় আপত্তির জবাবঃ বিগত ১৪০০ বছর ধরে ইসলামের সকল আলেম একমত যে নবী (সাঃ) এর জন্মদিবস ১২ই রবিউল আউয়াল। এখানে নবী (সাঃ) এর ওফাত দিবস নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেছেন ২য় রবিউল আউয়াল কেউবা ৩য় রবিউর আউয়াল। তাই নবী (সাঃ) এর জন্ম দিবস ওফাত দিবসের মতো নয়। অতএব ১২ই রবিউল আউয়াল শোকের দিন নয় বরং এটা উদযাপনের দিন। যদি আমরা ধরি ১২ রবিউল আউয়াল নবী (সাঃ) এর ওফাত দিবস তাহলে সকল মুসলমান জানেন যে ইসলামে শোকের জন্য তিনদিন রাখা হয়েছে। (হাদিস) কিন্তু এখন নবী (সাঃ) এর ওফাতের ১৪০০ বছরের উপর হয়েছে তাই আমরা শোকের পরিবর্তে জন্মদিবস পালন করবো।

      রাসূল (সাঃ) একটি হাদিসে বলেছেন, তাঁর আগমনও রহমতের, ওফাতও রহমতের।

      নবী (সাঃ) এর ওফাত এজন্যে রহমতের যে প্রতি শুক্রবার তাঁর উম্মতের আমল নামা তাঁর নিকট পেশ করা হয়। যখন তিনি তাঁর উম্মতের ভালো কিছু দেখেন তখন খুশী হন আর যখন খারাপ কিছু দেখেন তখন তাকে ক্ষমার জন্যে দোয়া করেন।

      ইসলামের বিশ্বাস এই যে, আল্লাহর নবীরা জীবিত অবস্থায় তাঁদের রওজা মোবারকে বিশ্রাম করছেন এবং আল্লাহর রিজিক প্রাপ্ত হচ্ছেন (কবর ও জীবিত অবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা, তুলনা করা চলবেনা)। আমাদের জন্যে কালেমা, ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মোহাম্ম্‌দুর রাসুলুল্লাহ” (অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই, মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল) এটুকুই যথেষ্ট। এটা বিশ্বাস করার জন্যে যে মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর রওজা মোবারকে জীবিত অবস্থায় আছেন। কারন মোহাম্মদ (সাঃ) হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল। এটা বলা হয়না যে তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। কারন একজন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ”হচ্ছেন” ব্যবহার করা যায়না।

      কোরআন হাদিস থেকে নেয়া নিম্নের আয়াতগুলো প্রমাণ করে নবী (সাঃ) জীবিত।

      আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। (আল-কোরআন সূরা ২১, আয়াত ১০৭)

      আল্লাহর রাসূল বলেন, ”শুক্রবারে আমার উপর বেশী বেশী দরূদ ও সালাম পাঠ করো। তখন ফেরেশতাগণ উপস্থিত থাকে। আমার উপর পড়া প্রতিটি দরূদ ও সালামের জন্যে তাঁর (আল্লাহ) সাওয়াব আমার কাছে পৌঁছায় তোমাদের দরূদ পাঠ শেষ করার পূর্বেই।তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি তাঁর মৃতুøর পরেও প্রযোজ্য হবে। তখন তিনি উত্তরে বললেন, ”আল্লাহ এই জমিনকে নবীদের দেহ নষ্ট করা হারাম করেছেন এবং আল্লাহর নবীরা জীবিত এবং আল্লাহ সে ব্যাবস্থা করেন।” (আল-তিরমিজি)

      আমার ওফাতের পরে আমার রওজা জিয়ারতে আসা মানে আমার জীবিত অবস্থায় আমার সামনে আসা (সহীহ হাদিস)

      যখন কেউ হজ্জ্ব পালন করে আমার রওজা জিয়ারতের জন্যে আসবে তা আমার জীবিত অবস্থায় আমার সামনে আসার মতো হবে (সহীহ হাদিস)

      ভেবে দেখুন

      কোরআন তেলাওয়াত কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      হামদে বারী তায়ালা কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      নাতে রাসূল কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      রাসূল (সাঃ) এর জীবনী সম্পর্কে ব্যাখা কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      রাসূল (সাঃ) কে দুরূদ পাঠানো কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      দোয়া চাওয়া কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      খাদ্য বিতরণ কি ইসলাম সম্মত হচ্ছে ?

      আওলাদে মুজাদ্দেদ মোহঃ আমের আলি সিদ্দিকী


      Copyright © www.furfurasharif.com ,২০১১, সর্ব্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত
      এই ওয়েব সাইটের যে কোন তথ্যের বা অংশের কর্তৃপক্ষের বিনা আনুমতিতে অন্যত্র প্রকাশ, ব্যাবহার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন আইনতঃ নিষিদ্ধ।