“ফুরফুরা শরীফ” নামের অপব্যবহার প্রসঙ্গেঃ

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৬, ২০১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ফুরফুরা শরীফের অনুসারীরা সাবধান! এটা ধ্রুব সত্য যে, মোহাম্মদ স. এর শেখানো যে পথে ওলি আওলিয়া ও বুযুর্গাণেদ্বীন চলেছিলেন সে সঠিক পথের উপরেই ফুরফুরা শরীফ সবসময় চলে আসছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কারা ফুরফুরা শরীফের পতাকাবাহী ও অনুসারী বলে গন্য হবে ?

সিলসিলা-এ ফুরফুরা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মোজাদ্দেদে জামান (দাদা হুজুর কেবলা র.) হযরত আবু বকর সিদ্দিকী আল ফুরফুরাভী র.। তাঁর মতবাদ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতবাদের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত। ফুরফুরা শরীফ কাদেরীয়া, চিশতীয়া, নঙ্বেন্দিয়া, মোজাদ্দেদীয়া তরিকা অনুসরন করে। যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতবাদের অনুসরন করে না, তারা ফুরফুরা শরীফের অর্æভুক্ত বলে বিবেচিত হবে না।

কিছু লোকের মধ্যে ভুল ধারনা রয়েছে যে ফুরফুরা শরীফ বাংলাদেশে অবস্থিত। “ফুরফুরা শরীফ” ভারতের পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার একটি বিখ্যাত গ্রাম। যেখানে দাদা হুজুর ও তার পাঁচ সাহেবজাদা র. মাজার রয়েছে। প্রতি বছর ফাল্‌গুন মাসের মাসের ২১,২২,২৩ তারিখে ফুরফুরা শরীফের প্রধান কেন্দ্র দাদা হুজুর কেবলা র. প্রতিষ্ঠিত ছয় থাম বিশিষ্ট “ফুরফুরা দরবার শরীফ” থেকে বার্ষিক ঈসালে সওয়াব মাহফিল পরিচালিত হয়। “ফুরফুরা শরীফ” ব্যাতীত অন্যত্র হতে দেয়া কোন মতবাদ ও বিবৃতি, ফুরফুরা শরীফের মতবাদ ও বিবৃতি বলে বিবেচিত হবে না। ফুরফুরা শরীফের পীরগণ দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছর বাংলাদেশ সফর করেন। তারা সবাই ফুরফুরা শরীফের নীতি তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতির অনুসরনের ব্যাপারে অবিচল।

এক নজরে ফুরফুরা শরীফের কিছু আকিদা ও মতবাদ

• মিলাদ, কেয়াম, সালাম, দুরূদ, ইয়া রাসুলুল্লাহ স. বলে ডাকা জায়েজ, বরকত ও সাওয়াবের কাজ, মাহফিলে নবীপাক স. এর রূহ মুবারক আসা সম্ভব।

• নবী, ওলি-আউলিয়া, মা-বাবা ও মৃত ব্যক্তিদের প্রতি (তারিখ ধার্য করে বা না করে) সাওয়াব রেসানী (ইসালে সাওয়াব) করা জায়েজ, বরকত ও সাওয়াবের কাজ ।

• নবী আওলিয়া কেরামগণ জিন্দা। তাঁদের অসিলা দিয়া দোয়া চাওয়া, শির্নী, খাদ্য বিতরণ করা নেক ও সাওয়াবের কাজ।

• কবরের উপর গম্বুজ করা, কবরের দিকে হাত উঠিয়ে মোনাজাত করা, কবরে কাঁচা ডাল পোতা জায়েজ ও নেক কাজ।

• কোন ওলির মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ ও নেক কাজ।

• শবে বরাতে হালুয়া, রুটি বা খিঁচুরী বিতরণ করা, কবরস্থান জিয়ারত করা জায়েজ ও নেক কাজ। খাদ্য বিতরণ করলে সাওয়াব হয়।

• লাশের জন্য খাস করিয়া সাওয়াব বখশীস করা, কুলখানি ও কোরআন পাঠ করা জায়েজ, নেক কাজ।

• আযান শেষে দোয়া পড়া ও হাত উঠিয়ে মোনাজাত করা জায়েজ ও নেক কাজ।

• বাপ,মা, এলমে জাহের, বাতেন জ্ঞানের অধিকারী পীর মরশেদের কদমবুসী সম্মানে দাঁড়ানো জায়েজ ও নেক কাজ।

• আখেরি জোহর নামাজ বা এহতিয়াতুজ জোহর না পড়িলে গোনাহ হইবে।

• মসজিদ বা অন্য স্থানে আল্লাহর জিকির, হালকায়ে জিকির করা, অন্তæরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টির জন্য মুরাকাবা করা জায়েজ। আল্লাহ্‌ বলেন, “তোমাদের মধ্যে বড় জালেম ঐ ব্যক্তি যাহারা আল্লাহ্‌র মসজিদে আল্লাহর নাম নিয়ে জেকের করতে নিষেধ করে।”-আল-কোরআন

সবার নীতি ও বিশ্বাস এক নয়। কিন্তু প্রশ্ন তখনই দেখা দেয় যখন কেউ নিজেকে ফুরফুরা সিলসিলার অংশ হিসাবে দাবী করে অথচ উপরোক্ত মতবাদের একাংশও অবিশ্ব্বাস করে। তারা ফুরফুরা শরীফের মৌলিক নীতি ও মতবাদের উপর বিশ্বাস না রেখেও ফুরফুরা শরীফের নাম ব্যাবহার করে সহজেই ফুরফুরা শরীফের ভক্তদের প্রভাবিত করে ইসলামের সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যায়। বস্তুত তারা ব্যাক্তিগত ও আর্থিক সুবিধার জন্যই ফুরফুরা শরীফের নাম ব্যাবহার করে থাকে। এসব মোনাফেক থেকে সাবধান থাকতে হবে। এরা ফুরফুরা সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত হবেনা।

নিঃসন্দেহে মুনাফেকেরা রয়েছে দোযখের সর্ব নিম্ন স্তরে। আর তোমরা তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী কখনোও পাবে না।” সূরা আন-নিসা আ’য়াত ১৪৫

মোহ: আমের আলি সিদ্দিকী

Copyright © www.furfurasharif.com ,২০১১, সর্ব্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত
এই ওয়েব সাইটের যে কোন তথ্যের বা অংশের কর্তৃপক্ষের বিনা আনুমতিতে অন্যত্র প্রকাশ, ব্যাবহার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন আইনতঃ নিষিদ্ধ।